সরস্বতী পুজোকে অনেকেই বলে থাকেন বাঙালীর ভ্যালেন্টাইনস্ ডে অথ্যাৎ অঘোষিত প্রেমদিবস।প্রাক্ বসন্তের ছোঁয়ায় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাপবাগ ক্যাম্পাসে গেলে তা ভালই টের পাওয়া যায়।এই দিনটাকে ঘিরে গোটা ক্যাম্পাসে ফুটে ওঠে ভালবাসার অসংখ্য খণ্ডচিত্র।পরিনতি পায় অনেক প্রেম।মন ভাঙার গল্প যে থাকে না এমনটাও নয়।
তবে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলিতে এ প্রেম বা ভালবাসা চেনা ছকের চেয়ে একটু আলাদা। সরস্বতী পুজোর ঠিক পরেরদিন বিয়ের মতো তত্ত্বের ডালি আদান প্রদানের মধ্যে দিয়ে এদিন দিনভর গোটা ক্যাম্পাসে চলে হইহুল্লোড়।
এমনিতেই সরস্বতী পুজো বাঙালিদের অঘোষিত ভালোবাসার দিন।প্রেমের দিন। কিন্তু এই প্রেমের প্রকাশ ঘটে বড় সুসংহত ভাবে।
আনুমানিক প্রায় সত্তরের দশক থেকে চলা আসা রীতি মেনে সরস্বতী পুজোর পরের দিন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক পড়ুয়ারা তত্ত্বের ডালি সাজিয়ে,ঢাক, ঢোল বাজনা সহযোগে এক হস্টেলের আবাসিকদের সাথে অপর হস্টলের আবাসিকদের মধ্যে সৌহার্দ্য বিনিময় করেন।
সারা বছর নিয়মের কড়া বেড়াজালে আবদ্ধ থাকেন আবাসিক ছাত্রছাত্রীরা। তবে এদিন সেই নিয়ম কিছুটা হলেও শিথিল হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্গী, নিবেদিতা,সরোজিনী, মীরাবাঈ হস্টেলের ছাত্রীরা বিয়ের মতোই গায়ে হলুদের সাজে,তত্ত্বের ডালা সাজিয়ে, বাহারী রঙের শাড়ি পরে অরবিন্দ,নেতাজী, চিত্তরঞ্জন, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্র হস্টেলে হাজির হয়।হস্টেলগুলির তরফে তখন তাদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানায় তাঁদের। ঠিক একই ভাবে ছাত্রাবাসের ছাত্ররা নতুন জামা কাপড় পরে উপহারের ডালি সাজিয়ে বাজনা বাজিয়ে উপস্থিত হয় ছাত্রীদের হোস্টেলেও। একইভাবে ছাত্রীরাও তাঁদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। পুজোর আনন্দে মেতে ওঠে সবাই।ভালোবাসাও ভাগ করে নেয় উপহারে।
সারা বছর পড়াশোনা,পরীক্ষা নিয়েই ছাত্রছাত্রীরা ব্যস্ত থাকেন।তবে ক্লাসে,টিউশনে পড়ার ফাঁকেই অনেকরই আবার অনেকের সঙ্গে সখ্যতা বেড়ে ওঠে। গড়ে ওঠে প্রণয়ের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কগুলো এদিন যেন আধার খুঁজে পায়।পত্তন হয় নব প্রেমকাব্যের।
তবে অনেক প্রেমেরই নক্সী কাঁথার মতোও পরিনতি ঘটে।
করোনার অতিমারির প্রকোপে গত দু’বছর এই রীতিতে ছেদ পরলেও এবছর পুরোনো সেই রীতি মেনেই পালিত হচ্ছে তত্ত্ব আদান প্রদান।তাই মন খারাপের সময়কে পার করে সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতের ফুল ফুটুক বা না ফুটুক গোলাপবাগ ক্যাম্পাসে কিন্তু আজই বসন্ত।



