ফের অশান্তি বিজেপির জেলা অফিসে।দলীয় কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি থেকে রক্ত ঝরলো বিজেপির জেলা অফিস চত্বরে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোটা ঘটনায় তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে বিজেপির জেলা অফিসের বাইরে একটি দোকানে বসেছিলেন বিজেপির কর্মী বড়নীলপুরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা গোবিন্দ ব্রহ্ম। সেই সময় বিজেপির পার্টি অফিস থেকে বেড়িয়ে আসেন বিজেপির ৪নং নগর মণ্ডলের সভাপতি অমৃতেন্দু চন্দ্র ওরফে রাজু চন্দ্র। গোবিন্দ ব্রহ্ম এদিন অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি গরীব মানুষদের জন্য বিজেপির পার্টি অফিসে আসে ত্রিপল। সেই ত্রিপল গরীব মানুষদের মধ্যে সঠিকভাবে বিলি না করে রাজু চন্দ্র বিক্রি করে দেয়। এব্যাপারে তিনি বারবার জেলা নেতাদের কাছে অভিযোগও করেন। এমনকি সম্প্রতি বিজেপি জেলা অফিসে আসেন বিজেপির আসানসোলের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল। তাঁর কাছেও বিষয়টি তুলে ধরেন গোবিন্দ। আর এরপর থেকেই রাগে ফুঁসতে থাকেন রাজু চন্দ্র। গোবিন্দবাবু জানিয়েছেন, এদিন সকালে তিনি পার্টি অফিসের বাইরে দোকানে বসে থাকার সময় আচমকাই তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন রাজু চন্দ্র।তাকে মারধর করে।ঘটনায় মাথায় ফেটে যায়।ফলে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পরই পালিয়ে যান রাজু চন্দ্র। আহত গোবিন্দ ব্রহ্মকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিত্সার জন্য। চিকিত্সা করানোর পর গোবিন্দবাবু বর্ধমান থানায় রাজু চন্দ্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা ইন্দ্রনীল গোস্বামী জানান, এই ঘটনা ঘটার সময় বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিত তা পার্টি অফিসেই ছিলেন। তাঁরা আশা করেছিলেন, নিশ্চয়ই তিনি কোনো ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু তা না করে তিনি পার্টি অফিস থেকে বেড়িয়েই চলে যান কোনোদিকে ভ্রুক্ষেপ না করেই। ইন্দ্রনীলবাবু জানিয়েছেন, এই ঘটনায় বিজেপির জেলা সভাপতির অমানবিক চেহারাটাই সামনে এসেছে। তিনি জানিয়েছেন,এব্যাপারে বিজেপি নেতৃত্ব যদি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন তাহলে আগামী দিনে অসুবিধায় পড়বে বর্ধমান জেলা বিজেপি দল।
এই ঘটনা সম্পর্কে রাজু চন্দ্র জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে গোবিন্দ বাবু মিথ্যা অভিযোগ করেছেন ত্রিপল নিয়ে। এরকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি।পাশাপাশি এদিন মারধর করার প্রশ্নে তিনি জানিয়েছেন,পরিচিতদের মধ্যে যেমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাক বিতণ্ডা হয়,এদিন গোবিন্দবাবুর সঙ্গে তাঁর সেইরকমই বাকবিতণ্ডা হয়। তাঁকে মারধর করা হয়নি। কিভাবে তিনি আঘাত পেয়েছেন তাও তিনি জানেন না।
অন্যদিকে,এই ঘটনা সম্পর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্র প্রসেনজিত দাস জানিয়েছেন, এটাই তো বিজেপির সংস্কৃতি। বিজেপির জেলা অফিসকে ঘিরে প্রতিদিনই নানান ঘটনা ঘটছে। কখনো বিজেপির পার্টি অফিস ভাঙচুর হচ্ছে, কখনো আবার পার্টি অফিসের ভেতরেই দুই গোষ্ঠী রণংদেহী হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এদিনের ঘটনা কোনো ব্যতিক্রম নয়।



